Facebook Twitter Instagram YouTube

হামলার আশঙ্কায় হঠাৎ উড়োজাহাজ বদলেছিলেন ট্রাম্প, নেপথ্যে ইরানের হুমকি


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ /
হামলার আশঙ্কায় হঠাৎ উড়োজাহাজ বদলেছিলেন ট্রাম্প, নেপথ্যে ইরানের হুমকি

চলতি মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনার নেপথ্যে ছিল ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার হুমকি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শুরুতে অবশ্য এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভিন্ন কারণের কথা জানানো হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পারে যে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্প এবং তিনি যে উড়োজাহাজে ভ্রমণ করবেন, সেটিকে লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলার ছক কষছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তুরস্কের আঙ্কারায় যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া উপহারের একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছিলেন। তবে ওই বিমানে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তখনো যুক্ত করা হয়নি। হুমকির তথ্য পাওয়ার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত ট্রাম্পকে বিমান পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। এরপর তিনি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে করে তুরস্ক থেকে দেশে ফেরেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল আকাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানটি ধ্বংস করা। ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাকে হত্যার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন ‘হিটলিস্টে’ তার নাম রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, এতদিন ভাগ্য তার সহায় ছিল, তবে সেটি সবসময় নাও থাকতে পারে।

যদিও শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ব্রিটেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের নতুন উড়োজাহাজটি দেখানোর সুযোগ করে দিতেই তিনি বিমান পরিবর্তন করেছিলেন এবং কোনো নিরাপত্তাজনিত কারণ ছিল না। তবে পরে জানা যায়, সিক্রেট সার্ভিসের জোর সুপারিশেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

হামলার এই হুমকির তথ্যটি মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন রাখা হয়েছিল। অনেক কর্মকর্তাকে কেবল ‘ইরানসংক্রান্ত সাধারণ নিরাপত্তা উদ্বেগ’-এর কথা জানানো হয়। এমনকি কংগ্রেসের শীর্ষ সদস্যদেরও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য না করলেও এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্পের জীবননাশের চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন।

একই সময়ে ইসরাইলও ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র নিয়ে ওয়াশিংটনকে কিছু গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের ধারণা ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করতেই ইসরাইল এই তথ্য দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, তুরস্কে বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল, যার সঙ্গে ইসরাইলের তথ্যের কোনো সম্পর্ক নেই。

এর আগে কাতারের দেওয়া নতুন বিমানের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তথ্য ফাঁসের তদন্ত শুরু করেছিল মার্কিন সরকার। তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিক ও তাদের স্বজনদের ফোন রেকর্ড চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে, নতুন বিমানে এখনো পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর সব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা আধুনিকায়নের জন্য আগামী শরতে নতুন বিমানটি প্রায় এক মাস সেবার বাইরে থাকবে। ওই সময়ে ট্রাম্প পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ব্যবহার করবেন।

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি হুমকির মাত্রা ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনা এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। এই কারণেই তার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin