
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই মুসলমানদের গরু কোরবানি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন মসজিদের মাইক খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শব্দদূষণের অভিযোগ তুলে রাজ্যজুড়ে মাত্র দুই দিনের বিশেষ অভিযানে প্রায় দেড় হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রশাসন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ সৃষ্টির কারণ দেখিয়ে ১ হাজার ২৭৬টি মসজিদ এবং ১৯৯টি মন্দিরকে তাদের লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রথমবারের মতো পরিচালিত এমন অভিযানে উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা কমিটিকে মাইক সরিয়ে নিতে এবং শব্দদূষণ বিধি মেনে চলতে উৎসাহিত করেছে পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ ও বিধিমালা) ২০০০ অনুযায়ী, দিনের বেলায় অর্থাৎ সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যেকোনো লাউডস্পিকার ব্যবহার করতে হলে পুলিশের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার করে শব্দের মাত্রা কঠোরভাবে ৫০ থেকে ৭৫ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।
অন্যদিকে, এই অভিযানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে শুধুমাত্র মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রশাসন থেকে তাদের কাছে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নোটিশ পাঠানো হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :