
ইসলামি দর্শনে যুবসমাজকে কেবল ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং বর্তমান সময়ের রূপান্তরকারী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুবশক্তি একটি জাতির হৃদস্পন্দন, যার প্রভাব ব্যক্তির জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে বিস্তৃত। যৌবন হলো জীবনের এমন এক সোনালি সময়, যা সাহস, উদ্যম এবং অসীম সম্ভাবনার আধার। এই বয়সে মানুষের চিন্তাশক্তি প্রখর থাকে এবং মনোবল থাকে দৃঢ়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের অধিকাংশ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই তরুণ প্রজন্ম।
পবিত্র কোরআনে সুরা রুমের ৫৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তিনি মানুষকে দুর্বল শৈশব থেকে শক্তির যৌবন দান করেন এবং এরপর বার্ধক্যের দুর্বলতায় ফিরিয়ে নেন। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, যৌবনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গঠন করা সম্ভব, অন্যথায় এর অপব্যবহার অনিবার্য পতনের কারণ হতে পারে।
একটি জাতিকে দক্ষ, দূরদর্শী ও নেতৃত্বদানে পারদর্শী প্রজন্ম উপহার দিতে হলে যুব উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, নৈতিকতা ও আদর্শের চর্চা; ইসলামি চরিত্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ইনসাফ, তাকওয়া এবং কঠোর পরিশ্রমকে অপরিহার্য মনে করা হয়। দ্বিতীয়ত, কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন; রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও তরুণদের কৃষি, ব্যবসা, চিকিৎসা, রণকৌশল এবং নৌযান পরিচালনার মতো কৌশলগত শিক্ষায় উৎসাহিত করা হতো।
তৃতীয়ত, সামাজিক ও নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ; এর একটি বড় দৃষ্টান্ত হলো উসামা ইবনে জায়েদ (রা.), যিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশাল মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন। যুবকদের ওপর এই ধরনের আস্থা স্থাপনই নেতৃত্ব বিকাশের কার্যকর পথ।
১. নৈতিকতা ও আদর্শ : সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ইনসাফ, তাকওয়া ও পরিশ্রম এগুলো হচ্ছে ইসলামি চরিত্র গঠনের ভিত্তি।
২. কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও তরুণদের কৌশলগত শিক্ষায় উৎসাহ দেওয়া হতো- যেমন: কৃষি, ব্যবসা, চিকিৎসা, রণকৌশল, নৌযান পরিচালনা ইত্যাদি।
আপনার মতামত লিখুন :