
কিশোরগঞ্জের একটি দোকানে ডাকাতির সময় দুজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১০৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে নুর মোহাম্মদ স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানিতে আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ দাবি করেন, তার মক্কেল ১০৪ বছর বয়সী এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং নিয়মিত তাকে ওষুধ ও চিকিৎসা নিতে হয়। তবে আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় মোশাররফ হোসেন ও আ. কবির নামের দুজন নিহত হন। ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর আদালত এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নুর মোহাম্মদ এই মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন এবং পরবর্তীতে জামিন নিয়ে আবার আত্মগোপনে চলে যান।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট আপিলের শুনানিতে নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট অন্য আসামিদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল রাখেন।
আপনার মতামত লিখুন :