Facebook Twitter Instagram YouTube

পৌনে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৯৬৩ শিশুর মৃত্যু: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ / ০
পৌনে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৯৬৩ শিশুর মৃত্যু: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ পৌনে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৭ হাজার ৯৬৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করে বুধবার (২১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে শিশুদের প্রাণহানির কারণ বিশ্লেষণে এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৯৫৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেলের চালক অথবা আরোহী হিসেবে। এছাড়া সড়ক পারাপার কিংবা হাঁটার সময় পথচারী হিসেবে মারা গেছে ২ হাজার ৮১২ জন শিশু, যা মোট নিহতের ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে বাস, ট্রাকসহ দূরপাল্লার কিংবা স্থানীয় যানবাহনে যাত্রী থাকা অবস্থায় প্রাণ গেছে আরও ২ হাজার ১৯৩ জনের।

পথচারী হিসেবে নিহত ২ হাজার ৮১২ জন শিশুর মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭১ জন মারা গেছে থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়। এছাড়া ভারী যানবাহন—যেমন বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের চাপায় বা ধাক্কায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ শিশুর। পাশাপাশি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯৮ জন শিশু নিহত হয়েছে।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রামীণ সড়কে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা মোট প্রাণহানির ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। এছাড়া আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২ জন, জাতীয় মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ জন এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিকেলের দিকে দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে এবং এতে ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়। অন্য সময়গুলোর মধ্যে সকালে ২ হাজার ১৬৮ জন, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ জন, রাতে ৫৯৮ জন, সন্ধ্যায় ৫৪৬ জন এবং ভোরে ২০৪ জন শিশু নিহত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক হিসাবে, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ জন শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ জন এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে ২ হাজার ৫১৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় মারা গেছে ৯৬২ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সচেতনতার অভাব, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসংকট এই মৃত্যুর হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ির কাছে যানবাহন চলাচলেও নিয়ম না মানা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির স্বল্পতায় শিশুরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করা, আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কার্যকরের আহ্বান জানানো হয়। সংস্থাসূত্রে জানানো হয়, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কের অব্যবস্থাপনার কারণে শিশুরা প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে ও পঙ্গু হচ্ছে, যা জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin