Facebook Twitter Instagram YouTube

সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ / ০ Views
সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই এদেশের নাগরিক এবং সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি জানান।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক হানাহানির বিপরীতে বাংলাদেশের সম্প্রীতিকে বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই সম্প্রীতি আমাদের শক্তি ও অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তিনি গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক ও আপসহীন থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার তাগিদ দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি। একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin