Facebook Twitter Instagram YouTube

২৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৬:০০ পূর্বাহ্ণ /
২৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা

১৯৯৯ সালের ২৫শে নভেম্বর রাজধানীর মতিঝিল থানার উত্তর শাহজাহানপুরে একটি চলন্ত ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রাণ হারান ট্রাকচালক নওশাদ নসু। এই ঘটনায় বিস্ফোরক ও হত্যা আইনে দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আদালতে ঘুরছেন ৮ বিএনপি নেতাকর্মী। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেছিল, যার নম্বর ১৬৯। মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ ২০ জনকে অব্যাহতি দিয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দীর্ঘ এই সময়ে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়েই আটকে আছে। মামলার এজাহারে ১৭ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও গত ২৭ বছরে তাদের কেউই আদালতে সাক্ষ্য দেননি। পুলিশ ও রাষ্ট্রপক্ষের ব্যর্থতায় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আদালত থেকে একাধিকবার সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এমনকি জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও সাক্ষীদের কোনো হদিস মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৬০ বারেরও বেশি সময় মামলার শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ বারবার সময় চেয়ে আবেদন করায় শুনানি প্রতিবারই পিছিয়েছে।

মামলার দীর্ঘসূত্রতার চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয় ২০১৮ সালে, যখন মামলার বাদী তৎকালীন এসআই নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, কিন্তু তাকেও হাজির করা যায়নি। পুলিশ সাক্ষীদের কর্মস্থলে নোটিশ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পায়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বারবার মামলাটি খারিজের আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর না করে বারবার সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করছেন।

মামলাটি ২০০২ সালের মার্চে প্রথমে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এবং পরে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে এটি ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতে পাঠানো হয়। আইনজীবীরা এটিকে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাজানো মামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বিনা বিচারে বছরের পর বছর আসামিদের আদালতে হয়রানি করা অমানবিক। আসামিপক্ষ এখন উচ্চ আদালতের নজরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin