Facebook Twitter Instagram YouTube

নবম পে-স্কেল নিয়ে জটিলতা: আইএমএফের পরামর্শ ও সরকারের কৌশল


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ /
নবম পে-স্কেল নিয়ে জটিলতা: আইএমএফের পরামর্শ ও সরকারের কৌশল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব পরিস্থিতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এই বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য চাপের কারণে সরকার এক ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন এই বেতন কাঠামো অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার আপাতত সেই সুপারিশ পুরোপুরি আমলে নিতে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি আরও পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে আইএমএফ প্রতিনিধি দল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, এই অবস্থায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এতে বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণেই আইএমএফ অন্তত দুই বছর এর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর নভেম্বরে আইএমএফের একটি দল বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি নবম পে-স্কেল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করতে আগ্রহী। তবে সরকার চায়, ওই বৈঠকের আগেই পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে, যাতে বিষয়টি আর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না আসে। বর্তমানে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সচিব কমিটির সুপারিশ, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো, এর প্রভাব এবং বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে-স্কেল সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও বিশ্লেষণ করে সুপারিশের নির্দেশনা দেন।

এদিকে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে অর্থ বিভাগ। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বা আগামী সপ্তাহের যে কোনো মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নীতিগতভাবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসতে চায় না। তবে একবারে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকরের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সবকিছু সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ চলছে।

বর্তমান অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন কাঠামোয় আর কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor