Facebook Twitter Instagram YouTube

র‍্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে না, নতুন নামে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সরকারের


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ /
র‍্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে না, নতুন নামে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সরকারের

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত না করে বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে একটি নতুন আইন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার খসড়ায় সামরিক ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স (এসআরএফ) অথবা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে একটি নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে র‍্যাব গঠিত হলেও, এবার পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে নতুন আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে র‍্যাবকে নামমাত্র নয়, বরং পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ৯টি অধ্যায়ে মোট ২৯টি ধারা রয়েছে। এতে ইউনিটের গঠন, দায়িত্ব, তল্লাশি, গ্রেপ্তার, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ এবং র‍্যাবের সম্পদ ও সদস্য স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। এই কাঠামো কার্যকর হলে র‍্যাব নামটি বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির সদস্য, স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং দায়দেনা নতুন ইউনিটের অধীনে চলে যাবে। নতুন এই ইউনিটটি বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত শাখা হিসেবে কাজ করবে এবং এর মহাপরিচালক হবেন পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

আইনের খসড়ায় নতুন ইউনিটের আট ধরনের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। এছাড়া পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। বর্তমান র‍্যাব মূলত অভিযান ও গোয়েন্দা কাজে সীমাবদ্ধ থাকলেও, নতুন বিধান অনুযায়ী এই ইউনিট নির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তও করতে পারবে।

মানবাধিকার কর্মী ও গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র‍্যাব পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কেবল পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়ে ইউনিট গঠনের সুপারিশ করেছিল, তবে নতুন খসড়ায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান মন্তব্য করেছেন যে শুধু নাম পরিবর্তন করলেই বাহিনীর সংস্কার হবে না, বরং জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

র‍্যাবের কার্যক্রম সারা দেশ থেকে কমিয়ে কেবল মহানগর এলাকায় সীমাবদ্ধ করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেকটি সভা করবে, যেখানে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo