
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ থাকার পরও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করছেন যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি কেবল প্রজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তা বেড়েছে। গত রোববার রুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে চার শিক্ষার্থীর উদ্যোগে একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। এই কার্যক্রমে শহীদ মিনার, প্রশাসনিক ভবন, বেলতলা, জিয়া হল ও সেলিম হলসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পরিষ্কার করা হয় এবং বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থী হলেন মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আর. এম. ফয়সাল আরাফাত, পুরকৌশল বিভাগের কায়েস বিন মাহবুব ও ওসমান বিন মাহফুজ এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আল শাহীদ সৈকত। আয়োজকদের কেউই রুয়েট ছাত্রদলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই। এর আগে একই ধরনের পরিচয়ে দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ১৫২টি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রুয়েট কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করে।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরও এসব কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেছিল।
এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সিরিজের ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।কর্মসূচির আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আর.
ফয়সাল আরাফাত, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল বিভাগের এ.
আপনার মতামত লিখুন :