
সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে জাতীয় পতাকার যথেচ্ছ ও আইনবহির্ভূত ব্যবহার বন্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ধরনের অবমাননাকর ব্যবহার রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অফিসকক্ষে চেয়ারের পেছনে, টেবিলের পাশে কিংবা সোফার পাশে জাতীয় পতাকা রেখে বসার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ ১৯৭২ সালের ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার’ এবং ‘বাংলাদেশ পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’ অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী কেবল নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ভবন এবং ১৫ শ্রেণির অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বাসভবনে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, স্পিকার, deputy স্পিকার ও হুইপসহ মাত্র ৮ শ্রেণির ব্যক্তি তাঁদের গাড়ি বা জলযানে পতাকা ব্যবহার করতে পারেন। এর বাইরে অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত অফিসকক্ষে চেয়ার বা টেবিলের পাশে পতাকা রাখার কোনো আইনি সুযোগ নেই। গণমাধ্যমে এ ধরনের ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়, যা জাতীয় পতাকার অবমাননা ও বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী।
শুনানিকালে আদালত পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, বৃত্তের ব্যাস এবং উত্তোলনের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনা করেন। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি ভবনে কেবল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা ওড়ানোর বিধান রয়েছে, সার্বক্ষণিকভাবে এটি টানিয়ে রাখার কোনো নিয়ম নেই। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে জানতে চান, অননুমোদিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ারের পেছনে বা পাশে পতাকা রেখে বসা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
পাশাপাশি আদালত দুটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথম নির্দেশনায়, সচিবালয়সহ সব সরকারি দপ্তরে নোটিশ জারি করে পতাকার বেআইনি ব্যবহার বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় নির্দেশনায়, পতাকার সঠিক ব্যবহার ও বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, একজন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের দপ্তরে পতাকা ব্যবহারের আইনি বৈধতা এবং পতাকার সঠিক মাপ অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে।
আপনার মতামত লিখুন :