
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ-এর আওতায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এ পর্যন্ত রাজ্যটিতে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, যারা এখনো সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া 'হিন্দু শরণার্থীদের' দ্রুত নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার লক্ষ্যে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে। বর্তমানে ২ লাখ ৭ হাজার আবেদন বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ১১ মার্চ ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত সিএএ আইনটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে তা দেশজুড়ে কার্যকর করে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব প্রদান করা।
২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে সিএএ-এর অধীনে শরণার্থীদের আবেদন শুনানি ও নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করে। সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী মতুয়া সম্প্রদায়সহ অন্যান্য হিন্দু শরণার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে শুনানিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে সনদ জারি করা হবে। তিনি বলেন, ভারত সরকার তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে এবং তারা তার কাছ থেকেই এই সনদ পাবেন। এর আগে গত ১ আগস্ট শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, রাজ্যে সিএএ-এর অধীনে থাকা সমস্ত মুলতবি আবেদন আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :