
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে অভিহিত করেছেন। শনিবার এ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল এবং স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনা বেশি ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের দমনে অতীতে এই নিষ্ঠুর পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, দেশের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর আটক রাখতে ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালা তৈরি করেছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সেই সরকার কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছিল।
বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করার সাহস পাবে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম হওয়া মানে কেবল একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু। তিনি এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’-এর প্রসঙ্গ টেনে এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :