Facebook Twitter Instagram YouTube

জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার, উত্তরণে নতুন কৌশল: তিতুমীর


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ /
জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার, উত্তরণে নতুন কৌশল: তিতুমীর

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, অতীতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণেই বর্তমান এই সংকট তৈরি হয়েছে।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকার এখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের গ্রাহকদের উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, গ্যাস দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৪ থেকে ৫ টাকা, সেখানে এলএনজি দিয়ে উৎপাদনে খরচ হয় ৬৪ টাকা। এই ব্যয় কমাতে পারলে ভর্তুকির অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে। আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে দুই গিগাওয়াট উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দকৃত দুই হাজার কোটি টাকা আইডকল ও বিআইএফএফএলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, যেখানে উৎপাদককে ২০ শতাংশ, অ্যাগ্রিগেটরকে ২০ শতাংশ এবং সরকারের ঋণ থাকবে ৬০ শতাংশ। এই ব্যবস্থায় সুদের হার কমে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসবে।

উপদেষ্টা আরও জানান, সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল অনুমোদন দিয়েছেন। এরই মধ্যে ১৮০ দিনের মধ্যে পরিবর্তনের মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। তিনি জানান, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলো ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা এবং জাকাতের অর্থ সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের পাঁচটি প্রধান চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতির ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ, অর্থায়নের উৎস, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছে, যা সেপ্টেম্বরে বিতরণ শুরু হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সরকার এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor