
ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নবীনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের পরিবার এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। একসময়ের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা এই পরিবারটির চারজন সদস্যই এখন গুরুতর অসুস্থ। হেলাল উদ্দিন পেশায় মাইক্রোবাস চালক ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে একের পর এক অসুস্থতার ছোবলে পুরো পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
হেলাল উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার পেটে একটি বড় টিউমারের অস্তিত্ব এবং খাদ্যনালীতে ক্যান্সারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর ২০২৫ সালের শুরুতে ধারদেনা ও জমানো টাকা খরচ করে ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল (পিজি) হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়, যেখানে তার পেট থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কেজি ওজনের একটি টিউমার অপসারণ করা হয়। এ পর্যন্ত তার চিকিৎসায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি তার ঘরভিটা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। বারোটি থেরাপির মধ্যে নয়টি সম্পন্ন হওয়ার পরই তার পরিবারে নতুন বিপর্যয় নেমে আসে।
তার স্ত্রী ময়না বেগম (৪০) ব্রেন স্ট্রোক করে ডান পাশ অবশ হয়ে পড়েন। এরপর তার বাবা সাহেব আলী (৭৫) ও মা হামেলা খাতুন (৭০)-ও স্ট্রোক করেন। বর্তমানে হেলাল উদ্দিন নিজেও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন, পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বও তার কাঁধে। পরিবারের সবাই অসুস্থ হওয়ায় বর্তমানে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম থমকে গেছে। বাড়ির সামনে একটি ছোট মুদি দোকানের সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চলছে তাদের।
হেলাল উদ্দিন দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, মানবিক সংগঠন এবং হৃদয়বান মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭৩২১৮৪৯০৬ (বিকাশ ব্যক্তিগত) নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, হেলাল উদ্দিন তার ক্যান্সার চিকিৎসা ও স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। দ্রুত তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এছাড়া হেলালের বাবা-মা বর্তমানে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন :