Facebook Twitter Instagram YouTube

গুমের শিকার স্বজনদের আহাজারি, নতুন আইন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ /
গুমের শিকার স্বজনদের আহাজারি, নতুন আইন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রায় ২০টি পরিবার এবং গুম থেকে ফিরে আসা দুজন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বর্তমান সরকারের আমলেও নতুন করে গুমের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বাগেরহাটের নিখোঁজ মিরাজ শেখের স্ত্রী মুক্তা খাতুন জানান, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার দিকে জয়মনির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদাপোশাকে থাকা দুজন কোস্টগার্ড সদস্য তার স্বামীকে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যান। সেই সময় মিরাজের মোটরসাইকেলটি দোকানি আল-আমিনের কাছে রাখা হয়েছিল, যা পরে ২১ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্য রবিন পরিচয়ে এক ব্যক্তি চাবি নিয়ে খুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে কোস্টগার্ড মিরাজকে তাদের হেফাজতে রাখার কথা অস্বীকার করে আসছে।

গুমের শিকার পরিবারের আরেক সদস্য আনিশা ইসলাম ইনশা জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুন তার বাবা ইসমাইল হোসেন বাতেন মিরপুর-১ থেকে গুম হন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সাত বছরেও বাবার খোঁজ মেলেনি, উল্টো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও গুমের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট তৎকালীন সরকারের আমলে র‍্যাব ফিরোজ খানকে গুম করেছিল বলে জানান তার স্ত্রী আমেনা আক্তার, যার কোনো সন্ধান আজও পাওয়া যায়নি।

অনুষ্ঠানে নতুন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি পরিচালক তাসনিম ফারহানা জানান, ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এই আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী করতে পারবে না, যা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এছাড়া অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা বিচারহীনতাকে আরও উৎসাহিত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এই আইনকে ‘বস্তা পচা আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি গুম ও খুনের ছাড়পত্র দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য বাহিনী দিয়ে তদন্তের কথা বলে পরিবারগুলোকে ভয় দেখানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, আইনটি সর্বজনীন হতে হবে এবং গুমের তদন্তের দায়িত্ব স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং নিখোঁজ অবস্থা থেকে ফিরে আসা মারুফ জামান এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo