Facebook Twitter Instagram YouTube

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, তুলে ধরলেন পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ /
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, তুলে ধরলেন পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণসহ দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং সংগঠনের অন্য পরিচালকরা।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি দেশীয় শিল্প ও ব্যবসার প্রসারে বর্তমান সরকারের নানামুখী দূরদর্শী ও শিল্পবান্ধব পদক্ষেপের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এলডিসি উত্তরণ বিলম্বিতকরণ, বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় কারখানা চালুর লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা, নন-বন্ড কারখানার জন্য বন্ডেড কাঁচামাল সংগ্রহ ও সরাসরি রপ্তানির সুযোগ এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ ইজ অব ডুয়িং বিজনেস নিশ্চিতকরণে সরকারের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।

তবে আলোচনার এক পর্যায়ে বিজিএমইএ সভাপতি তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান কঠিন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট, যার ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে বেশিরভাগ কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে এবং রপ্তানি অর্ডার হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও মজুরি সমন্বয়ের কারণে গত তিন বছরে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিনিধিদল আরও জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১.৬৪ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১.৯২ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও অর্ডার সংকটের কারণে গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যা কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক। এই সংকট উত্তরণ ও খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিগত সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin