
গত মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৬৫০ জন ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। এই দলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান। জামায়াতে ইসলামীর একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা তাঁর যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক এই বিচারপতির দলে যোগদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খাঁন বুধবার ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, শাহিদুর রহমান জামায়াতে যোগ দিয়ে অতীতের বিতর্ক থেকে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, জামায়াত যেন নির্বাচনের আগে ‘অপরাধী পাপ মুক্তকরণ টিকিট’ চালু করেছে। এ বিষয়ে জামায়াতের বক্তব্য জানার জন্য দলের একাধিক নেতা ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সৈয়দ শাহিদুর রহমান ২০০৪ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে অপসারিত হয়েছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০০৩ সালের ১ অক্টোবর, যখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন যে, হাইকোর্টের একজন অতিরিক্ত বিচারক অপর এক সহকর্মীর মাধ্যমে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বে গঠিত জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ৬ দফার ক্ষমতাবলে তাঁকে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক পদ থেকে অপসারণ করেন।
অপসারণের পরদিন ২১ এপ্রিল সৈয়দ শাহিদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে কুৎসিত রাজনীতির শিকার বলে দাবি করেন। তিনি হাইকোর্টে রিট করলে ২০০৫ সালে আদালত অপসারণের আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে ইদ্রিসুর রহমান নামের এক আইনজীবীর আপিলের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপতির অপসারণের আদেশ বহাল রাখলে তাঁর বিচারক হিসেবে ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ তখন এই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :