Facebook Twitter Instagram YouTube

লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ /
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের ১৫ বছরের ভুল ও অপরিকল্পিত নীতিকে দায়ী করেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো লুকোচুরি করতে চায় না। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কষ্টে আছে। এ জন্য তিনি নিজের মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আজকের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে এ দেশের মানুষ আজ ভুক্তভোগী।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট, যার জন্য দৈনিক ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল, যা ১৫ আগস্ট মেরামত শেষে পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। বিগত সরকার এসব কেন্দ্রের মালিকদের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গিয়েছিল। এই সংকট কাটাতে বর্তমান সরকার দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh