
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই থেমে যাওয়া এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধের নতুন ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এই রুট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানির দাম সহসা কমার সম্ভাবনা নেই।
জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর সাথে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণপত্র বিক্রির চাপে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ বলে ব্লুমবার্গের তথ্যে উঠে এসেছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন দেশের সরকারি বন্ডের সুদ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ ১৯৯৮ সালের পর এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ড ২০০৭-০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ের পর্যায়ে অবস্থান করছে। এছাড়া জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদও কয়েক দশকের সর্বোচ্চ মাত্রার কাছাকাছি রয়েছে।
গামা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রাজীব দে মেলো জানান, বন্ডের সুদ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো, যারা কম সুদের হারের ওপর নির্ভরশীল, তাদের শেয়ারের দরপতন এশিয়ার বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। টোকিও, সিউল, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন, তাইপে ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে, যা ওয়াল স্ট্রিটের সাম্প্রতিক মন্দার প্রতিফলন।
ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর মাইকেল বারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মূল্যস্ফীতি যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকে, তবে নীতিনির্ধারকদের সুদের হার বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামী এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হবে, যা ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :