Facebook Twitter Instagram YouTube

আটক নারীদের মুখ দেখাতে পুলিশের জোর, সমালোচনায় মানবাধিকার কর্মীরা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ /
আটক নারীদের মুখ দেখাতে পুলিশের জোর, সমালোচনায় মানবাধিকার কর্মীরা

রাজধানীর আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউ রংধনু আবাসিক হোটেলে গত ১২ আগস্ট ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কয়েকজন নারীকে আটক করা হয় এবং একটি কক্ষে বসিয়ে তাঁদের ভিডিও করা হয়। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক নারীরা শাড়ির আঁচল, ওড়না, মাস্ক কিংবা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এ সময় পুলিশের দুজন নারী সদস্য জোর করে তাঁদের মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে চেহারা দেখাতে বাধ্য করেন। ভিডিওতে একজন নারীকে কাঁদতে দেখা গেছে, তবুও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সব খোল, সব খোল, এই মাস্ক খোল, ঢাকবি না, ঢাকলে কিন্তু মাইর হবে।’

অভিযানের সময় ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনিই নারীদের মুখ ঢাকতে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ভিডিওতে তাঁকে মাস্ক পরা অবস্থায় এটি বলতে শোনা যায়। তবে ইলিয়াস কবির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২ সেপ্টেম্বর তিনি জানান, পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য মাস্ক সরাতে বলা হতে পারে, কিন্তু কাউকে জোর করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু করা হয়নি। আমরা ভালো কাজের চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে টুকটাক ভুল হতে পারে। কারণ, আমরা তো মানুষ, ফেরেশতা না।’

পুলিশি অভিযানে ইউটিউবার ও কিছু সংবাদমাধ্যমের এমন ভিডিও প্রচারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান বলেন, বিচারের আগেই পুলিশ এমন শাস্তির আয়োজন করছে, যা আইনত বেআইনি। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদও এই চর্চাকে আইনবহির্ভূত বলে অভিহিত করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী জানান, আবাসিক হোটেল বা বারে অভিযানের সময় ইউটিউবার ও সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া অনৈতিক। তিনি বলেন, ভিউ পাওয়ার আশায় কিছু সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর এসব অভিযানে অংশ নিচ্ছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাবে না। এছাড়া ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গণমাধ্যমের সামনে হাজির না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আটক ব্যক্তির মুখ অস্পষ্ট (ব্লার) করে দেওয়ার নিয়ম চালু করলেও, এই ভিডিওতে তার ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo