Facebook Twitter Instagram YouTube

বিনা সুদে ডিজিটাল ঋণের নতুন উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ /
বিনা সুদে ডিজিটাল ঋণের নতুন উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রাহকদের জন্য নতুন এক ডিজিটাল ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এই বিশেষ সুবিধার আওতায় গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সুবিধাটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে।

এই ঋণের অর্থ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়, ভ্রমণ খরচ, সরকারি সেবার ফি, কর, বিমার প্রিমিয়াম এবং ঋণ বা আমানতের কিস্তি পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। তবে এই ঋণের অর্থ কোনোভাবেই নগদে উত্তোলন করা সম্ভব হবে না। গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব কিংবা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটেও এই টাকা জমা করা যাবে না। অনুমোদিত ঋণের অর্থ নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতাকে পরিশোধ করতে হবে।

ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ দেয়া হবে। এই ঋণের বিপরীতে কোনো সুদ নেয়া হবে না, তবে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি আদায় করবে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা সেবা ফি প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে গ্রাহককে কোনো বাড়তি সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য বাড়তি ফি দিতে হবে না। তবে, নির্ধারিত সময়ের পর ঋণ পরিশোধ করলে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির বেশি হবে না।

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলক বা পাইলট ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে। ব্যাংকগুলো এই কার্যক্রম পরিচালনায় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারত্ব করতে পারবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি (OTP) বা দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রাহকরা সহজে ছোট অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh