
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে ইরানের ৮০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘শক্তিশালী’ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অভিযানে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযানও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
সেন্টকমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাবিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ‘মূল্য চুকাতেই’ এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী কাতারি জাহাজ ‘এমটি আল আল-রেকাইয়াত’, সৌদি আরবের ‘এমটি ওয়াদিয়ান’ এবং লাইবেরিয়ার ‘এমটি সাইপ্রাস প্রসপারিটি’। এই ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ ও ‘যুদ্ধবিরতির বিপজ্জনক লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চুক্তি লঙ্ঘিত হলে ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে তারা প্রস্তুত।
ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এই হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি একে গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, সামরিক স্থাপনার কথা বলা হলেও বেশিরভাগ হামলা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বেসামরিক এলাকায়। কাতার ও সৌদি আরবও এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, নতুন করে মার্কিন হামলার খবরে ইরাক সফর সংক্ষিপ্ত করে তেহরানে ফিরে গেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত মঙ্গলবার রাতে খামেনির মৃতদেহ নাজাফে পৌঁছায়। আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে সমাহিত হওয়ার আগে তার কফিন নাজাফ থেকে ইরাকের কারবালায় নেওয়া হবে। ইরাক সফরে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার কথা ছিল পেজেশকিয়ানের। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া সাময়িক ছাড় প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা ইরানকে ক্ষুব্ধ করেছে। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।
আপনার মতামত লিখুন :