Facebook Twitter Instagram YouTube

ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, গৃহহীন দুই লাখের বেশি মানুষ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ /
ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, গৃহহীন দুই লাখের বেশি মানুষ

ফ্রান্স ও স্পেনে চরম তীব্রতায় ছড়িয়ে পড়া অনিয়ন্ত্রিত দাবানলে নজিরবিহীন মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের বিশাল এলাকা ভস্মীভূত হওয়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যেই দুই লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও তীব্র বাতাসের কারণে পরিস্থিতি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

ফ্রান্সে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে। দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বোর্দোর আশপাশ থেকে নতুন করে ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন। উপকূলীয় জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করা হয়েছে, যেখানে গ্রীষ্মের মৌসুমে জনসংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে যায়। দমকল বাহিনীর প্রধান মার্ক ভারম্যুলেন জানিয়েছেন, ২০২২ সালের দাবানলের চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি বেশি বিপজ্জনক এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে আগুন রাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। জিরন্দ অঞ্চলে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি ও অন্তত ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

স্পেনে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। মাদ্রিদের কাছে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রিদ অঞ্চলে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ হাজারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার মানুষ লকডাউনে রয়েছেন। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে জ্বলন্ত কণা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা জানিয়েছেন, দুটি দাবানল যাতে এক না হতে পারে সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। মাদ্রিদ অঞ্চলে ছয় হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে নয় হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। বুর্গোহন্দো এলাকার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার ও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাবানল মোকাবিলায় বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠিয়ে সহায়তা করছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করা হয়েছে এবং চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ অতিরিক্ত সহায়তা আসছে।

ফ্রান্সে ২ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে: ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে প্রায় ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপও পুরোপুরি খালি করা হয়েছে। অনেক মানুষ নৌকায় করে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। সারা বছর সেখানে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে জনসংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin