Facebook Twitter Instagram YouTube

হেমন্তেই শীতের আগমনী বার্তা, এবার শীত কেমন হবে?


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ / ০
হেমন্তেই শীতের আগমনী বার্তা, এবার শীত কেমন হবে?

হেমন্তের শুরুতেই দেশের আবহাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে রাত ও ভোরে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় ভোরে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে এই তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শেষ রাত ও সকালে শীতের আমেজ বাড়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এবারের শীত কতটা তীব্র হবে বা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের আগমন অনুভূত হলেও পুরো মৌসুমের চিত্র আগামী কয়েক মাসের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি, বিশেষ করে এল নিনোর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের আমবাগানে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার চট্টগ্রামের আমবাগানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবারও তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রার এই পরিসংখ্যান দিন ও রাতের আবহাওয়ার পার্থক্য স্পষ্ট করছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. আবুল কালাম মল্লিকের মতে, বাংলাদেশের জন্য ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রা স্বস্তিদায়ক। এর নিচে নামলে অনেকের ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা আরও কমলে শীতের অনুভূতি বাড়বে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে রাজধানীতেও ভোর ও সকালে শীতের আমেজ বাড়তে পারে।

এবারের শীত নিয়ে আবহাওয়াবিদদের আলোচনায় এল নিনোর প্রভাব গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এই জলবায়ু পরিস্থিতি বিশ্বের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি জলবায়ু পূর্বাভাসে জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি কিংবা তার চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ অক্টোবরের বৈশ্বিক পূর্বাভাসেও এল নিনোর প্রভাব জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে শীত তুলনামূলক উষ্ণ হতে পারে কিংবা স্থায়িত্ব কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এল নিনোর প্রভাব সব এলাকায় সমান হবে না, তাই শীতের তীব্রতা ও শৈত্যপ্রবাহের বিষয়ে চূড়ান্ত ধারণার জন্য আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার বিস্তৃতি নির্ভর করবে লঘুচাপের অবস্থান ও শক্তির ওপর। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলামের মতে, হেমন্তের শুরুতে তাপমাত্রা কমলেই তা তীব্র শীতের আগমন নয়; বরং দিনের তাপমাত্রা, রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, বাতাসের গতিপ্রকৃতি, কুয়াশা এবং শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি মিলিয়েই শীতের প্রকৃত রূপ নির্ধারিত হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh