
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার পৃথক অভিযোগে কারাবন্দি ছিলেন। সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের একটি গোপনীয় স্মারকে এই তথ্য উঠে এসেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে স্মারকে জানানো হয়, তাদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল এবং তাদের তা’জির হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
জেদ্দা কনস্যুলেট গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়েছিল। প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার ইকামা নম্বর ২৫৩৮৩৬৬৮২০ এবং পাসপোর্ট নম্বর A03771867। তিনি আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয় এবং তিনি জেদ্দা সংশোধনাগারে ছিলেন।
অন্যদিকে, সুইটি আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগর সাউয়ালী গ্রামের বাসিন্দা। তার ইকামা নম্বর ২৫৪১৩২৪৮৫৭ এবং পাসপোর্ট নম্বর A04031842। তিনিও একই কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে তাকে আটক করা হয় এবং তিনি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তালিকায় তাদের সাজার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের দায়ে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার এটিই প্রথম নজির।
জেদ্দা কনস্যুলেট জানিয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি চারিত্রিক মামলাসহ নানা অপরাধে আটক আছেন। এর মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে, যা এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত। সাইবার অপরাধে মক্কায় অন্য তিনটি পৃথক মামলায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার নজির রয়েছে।
কনস্যুলেট আরও জানায়, সৌদি আরবের আদালতে বর্তমানে ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনুবাদ সহায়তা নেওয়া হয়, যার ফলে মিশনের পক্ষ থেকে বিচারিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অনুবাদক যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। নজরুল ও সুইটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি সহায়তার আবেদন পাওয়া যায়নি। এছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক উপায়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে তাদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা বা কার্যকর করার বিষয়ে অবহিত করেনি। বর্তমানে রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্যের জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে।
ফজল মিয়া, গ্রাম: নগর সাউয়ালী, ডাকঘর: মহেরা-১৯৪৫, উপজেলা: মির্জাপুর, জেলা: টাঙ্গাইল বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :