Facebook Twitter Instagram YouTube

আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে : আইনমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ /
আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে : আইনমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনি ও জাতীয় অঙ্গীকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিএনপির দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই এটিকে সংবিধান পরিপন্থী বা ‘আল্ট্রা ভাইরাস’ বলে আসছি। হাইকোর্ট বিভাগ এই সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এখন এই রায় চূড়ান্ত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্যই ছিল যেন মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারে। তিনি জানান, রায়ের আলোকে পাবলিক কনসালটেশন বা জনমত যাচাই এবং গণভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো তৈরি করা হবে।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে রায়টি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে উল্লিখিত ৫৪টি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং ‘জুলাই সনদ’-কে সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ অন্যান্য সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

জনমত সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বেশ কিছু আইনের খসড়া তৈরির সময় যেভাবে অংশীজন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কূটনীতিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং ভিক্টিম পরিবারগুলোর সাথে পাবলিক কনসালটেশন করা হয়েছে, একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়া আগামী সংসদ অধিবেশনেই পরিমার্জিত মানবাধিকার কমিশন আইন পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।