
দাম্পত্য জীবনে মানসিক প্রশান্তি ও সম্পর্কের গভীরতা বজায় রাখতে ছুটির দিনে সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো অত্যন্ত কার্যকর। মনোবিজ্ঞানী মার্ক ট্র্যাভার্স মনে করেন, ছুটি দাম্পত্য জীবনের শক্তির একটি বড় উৎস। কারণ ছুটির দিনে দৈনন্দিন কাজের চাপ থাকে না, ল্যাপটপ বা মোবাইলের ব্যবহার কমে যায় এবং শরীর ও মন অনেকটা শিথিল থাকে, যা দম্পতিদের একে অপরের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেয়।
জার্নাল অফ ফ্যামিলি সাইকোলজির গবেষণা অনুযায়ী, মানসিক চাপ বৈবাহিক জীবনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে স্বামী-স্ত্রী যখন রোমান্টিক মুহূর্তগুলো একসাথে কাটান, তখন অনেক ভুল বোঝাবুঝি দূর হয় এবং সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরে আসে। সমুদ্র সৈকত, পাহাড় বা প্রকৃতির সান্নিধ্য দম্পতিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে কাছাকাছি নিয়ে আসে, যা সম্পর্কের ফাটল মেরামত করতেও সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক সান্নিধ্য রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। পরস্পর হাত ধরা বা আলিঙ্গনাবদ্ধ হওয়ার ফলে শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরিত হয়, যা মস্তিষ্কের চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এর ফলে মন প্রফুল্ল ও প্রাণবন্ত থাকে। এছাড়া নিয়মিত শারীরিক অন্তরঙ্গতা পুরুষদের প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং রাতে ভালো ঘুম নিশ্চিত করে কর্মোদ্দীপনা বাড়িয়ে তোলে।
বর্তমান প্রযুক্তি-নির্ভর সমাজে স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি বসে থাকলেও মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকার প্রবণতা দেখা যায়, যা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। গবেষকদের মতে, হাজার হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে, পরস্পরের দুর্বলতা, ভয় ও দুশ্চিন্তাগুলো শেয়ার না করলে শারীরিক, মানসিক বা আত্মিক কোনো ক্ষেত্রেই গভীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় না। তাই সুখী দাম্পত্য উপভোগের জন্য সঙ্গীর কাছে নিজের দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে তার সহায়তা চাওয়া জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :