Facebook Twitter Instagram YouTube

মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বের পথ বেছে নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ /
মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বের পথ বেছে নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিভক্তির পরিবর্তে সংলাপ এবং মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নেবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিতে আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের সদস্য দেশগুলোর প্রতি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। ড. খলিলুর রহমান সতর্ক করে বলেন যে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ফলে বাংলাদেশ মাদক পাচার, মানবপাচার এবং অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করার বিষয়টি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর একটি রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে এআরএফভুক্ত দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই সংলাপ ও কূটনীতিকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জলবায়ুজনিত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্যোগ ত্রাণবিষয়ক এআরএফ আন্তঃসেশনাল বৈঠকের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ এআরএফ কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি সাইবার নিরাপত্তা হুমকি, ভ্রান্ত তথ্যের প্রচার এবং উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি এ অঞ্চলের বিশেষ ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি সুশাসন কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনারও প্রস্তাব দেন। সবশেষে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor