Facebook Twitter Instagram YouTube

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ: আইইএ-র প্রতিবেদন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ /
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ: আইইএ-র প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের ‘ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬’ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় এই দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর।

আইইএ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বাধার কারণে এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। যদিও উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, তবুও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পুনরায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, শিল্পায়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা এবং ডেটা সেন্টারের প্রসারের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে। তবে আইইএ সতর্ক করেছে যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো এলএনজি-নির্ভর দেশগুলোর জন্য উচ্চমূল্য ও সরবরাহ-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আশার কথা হলো, আইইএ বলছে ২০২৬ সালের মধ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে পরিণত হবে। সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ায় তা জলবিদ্যুতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম নবায়নযোগ্য উৎসে উন্নীত হতে যাচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din