
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালের হারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। মূলধারার সংবাদমাধ্যম এসব দাবিকে গুরুত্ব না দিলেও হাজার হাজার সমর্থক হারের বিভিন্ন কাল্পনিক ব্যাখ্যা খুঁজছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মেসির ড্রেসিংরুমের মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনকে (এএফএ) মুখ খুলতে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তত্ত্বের দাবি, ফাইনালের আগে গোলরক্ষকদের গোলপোস্ট ও জালের অবস্থা পরীক্ষা করতে দেখা যায়নি, কারণ বলটি হয়তো জাল ভেদ করে বেরিয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ দাবি করছেন, বলের ভেতরে থাকা ট্র্যাকিং চিপ পরিবর্তন করা সম্ভব ছিল। অন্য একটি দাবি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল, যার কারণে অনেকে মাঠে উপস্থিত ছিলেন না। তবে এসবের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
ম্যাচের আগে ডোপিং পরীক্ষা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। দাবি করা হয়, শেষ মুহূর্তে ডোপিং পরীক্ষার মুখোমুখি করায় খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়েছিল। যদিও ফিফা জানিয়েছে, এটি নিয়মিত প্রটোকলের অংশ ছিল এবং আর্জেন্টিনা দল কোনো অভিযোগ করেনি। সবচেয়ে অদ্ভুত তত্ত্বগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্পেনের রাজা এবং রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আর্জেন্টিনাকে হারানোর আন্তর্জাতিক পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শনের জেরেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
অন্য একটি তত্ত্বে বলা হয়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মেসিকে ট্রফি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অন্যথায় আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘমেয়াদী শাস্তির মুখে পড়তে হতো। এছাড়া ২০২৭ সালে ফিফা সভাপতির পুনর্নির্বাচনের জন্য ইউরোপীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে উয়েফার সঙ্গে গোপন সমঝোতার দাবিও তোলা হয়েছে। এমনকি ম্যাচের দিন এফবিআই এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিয়েছিল বলেও গুজব ছড়িয়েছে।
মেসি ও লামিনে ইয়ামালের ছোটবেলার একটি ছবিকে ঘিরেও ‘ফ্রিম্যাসন’ বা ‘সত্তা স্থানান্তরের’ মতো উদ্ভট তত্ত্ব সামনে এসেছে। এছাড়া স্পোর্টস বেটিং, কালো জাদু, স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিনিময়ে জয় পাওয়া এবং রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবির মতো বিষয়গুলোও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :