
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এই চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ৬ আগস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বাকেই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে প্রণালিটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের পূর্ণ নিশ্চয়তা মিলবে না। কারণ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরান ও দেশটির স্বার্থের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের মতো আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপগুলো এখনও বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান অবশ্য এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, নতুন এই পথটি অস্থায়ী হবে এবং এটি দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করছে। অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শুল্কই চায় না। এই প্রস্তাবিত চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিটি খুব শিগগিরই খুলে না দেওয়া হলে ইরান ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে, তবে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :