Facebook Twitter Instagram YouTube

আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১২, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ /
আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার জেরে আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (১২ আগস্ট) দিন শেষে দেশের মোট বা গ্রোস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি মাসের শুরুতেও রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। গত ২ আগস্ট দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ছিল ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রোস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ বেড়েছে ৬১ কোটি ডলার।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে 'ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ' হিসাব করলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না। এই হিসাবে আইএমএফের এসডিআর, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিলের মতো কিছু খাতকে বাদ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় বিবেচনা করলে, এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি বিল মেটানো সম্ভব। সাধারণত অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ মনে করা হয়।

অতীতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, যখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতির কারণে রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের মোট রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল, যা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh