Facebook Twitter Instagram YouTube

তালেবান শাসনের পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ /
তালেবান শাসনের পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়

কাবুল থেকে মার্কিন সেনাদের বিশৃঙ্খলভাবে প্রত্যাহার এবং তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার ও মানবিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একসময় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল যে আফগানিস্তান, যেখানে ২০ বছরের যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের প্রায় ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, সেই দেশটি এখন বিশ্ববাসীর নজরের আড়ালে চলে গেছে।

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা সংকটের সম্মিলিত প্রভাবে দেশটির লাখ লাখ শিশু এখন অনাহারের মুখে পড়েছে। সেই সঙ্গে নারী ও মেয়েদের মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আফগানিস্তানের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। অথচ তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আন্তর্জাতিক দাতারা দেশটিতে সহায়তা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। একসময় আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রদানকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এখন শীর্ষ পাঁচ দাতার তালিকাতেও নেই।

তালেবান প্রশাসন নারী ও মেয়েদের অধিকার হরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। আইনি সুরক্ষা দুর্বল করার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘জেন্ডার অ্যাপারথাইড’ বা ‘লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবৈষম্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর ফলে দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠী কার্যত জনজীবন থেকে মুছে গেছে এবং আফগানিস্তান নারীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে।

আফগানিস্তান পুনর্গঠনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল জন সপকো গত বৃহস্পতিবার সিএনএনকে বলেন, ‘খুব সরাসরি বলতে গেলে, আফগানিস্তানে নারী হিসেবে জীবন নরকের মতো।’

এদিকে ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তানে ইউএসএআইডির প্রায় সব মানবিক ও উন্নয়নমূলক চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। এর ফলে পরিকল্পিত ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin