
দেশে কোনো ধরনের 'মব কালচার' সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশ চলবে দেশের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এবং সরকার তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এই সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে যে মব কালচার তৈরি হয়েছিল, তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যে শতাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে এবং এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় বা নির্লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। এই মব কালচার বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী দিনগুলোতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
জবাবে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, মব কালচার যখনই হোক না কেন, তা অনভিপ্রেত এবং এটি কখনই হওয়া উচিত নয়। তবে সম্প্রতি বড় ধরনের মব কালচার হয়েছে এমন কোনো স্পষ্ট উদাহরণ তার কাছে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ দিকে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, এখন আর সেই ধরনের মব কালচার নেই। তবে সরকার এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ সময় আলোচনায় যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমানে মব কালচারের মাত্রা অনেক কমে এসেছে। সাধারণত এক ধরনের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক প্রভাব বা সমর্থন থেকে এই মব কালচার তৈরি হয়। আইনের শাসন যত জোরদার হবে, মব কালচার ততটাই হ্রাস পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে আইনের শাসনের প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন, তার প্রমাণ হলো বর্তমানে কোনো ভিন্ন মত বা বিরোধী রাজনৈতিক নেতা হয়রানির শিকার হচ্ছেন না। আইনের শাসনের এই পরিবেশ বজায় থাকলে মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
মতবিনিময় সভায় সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন খাতের সাফল্যের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক Unions-এর মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান এবং উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীনসহ সহকারী প্রেস সচিবরা।
আপনার মতামত লিখুন :