Facebook Twitter Instagram YouTube

গ্রিন ইয়ার্ড তকমা থাকলেও সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে বাড়ছে মৃত্যু


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ /
গ্রিন ইয়ার্ড তকমা থাকলেও সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে বাড়ছে মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে কর্মরত সিংহভাগ শ্রমিক দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসা অভাবী মানুষ। দিনে এনে দিনে খাওয়া এসব শ্রমিকদের অনেক সময় গ্রিন তকমাধারী শিপইয়ার্ডগুলোতে ‘বলি’ হতে হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক যুগে এই শিল্পে ১৪৮ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ২৭৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ছোটখাটো দুর্ঘটনাগুলো অনেক সময় ধামাচাপা দেওয়া হয়, ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি।

বর্তমানে সীতাকুণ্ডে ৩১টি সচল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে, যার মধ্যে ২৩টি সরকার কর্তৃক ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ হিসেবে ছাড়পত্র পেয়েছে। আরও ৮টি ইয়ার্ড ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তবে পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞদের দাবি, কাগজে-কলমে গ্রিন ছাড়পত্র থাকলেও অধিকাংশ ইয়ার্ডই ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশবিদরা বলছেন, কেবল গ্রিন তকমা থাকলেই হবে না, প্রতিটি ইয়ার্ডকে ‘বাসেল কনভেনশন’-এর নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।

গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ পুরোনো জাহাজের ভেতর বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এলএনজি বহনকারী ‘এমটি রাসি’ জাহাজটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভাঙার জন্য উপকূলে আনা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজ (বিলস)-এর তথ্যানুযায়ী, গত ১২ বছরে জাহাজভাঙা শিল্পে হতাহতের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ১৬ জন, ২০১৬ সালে ১৮ জন, ২০১৭ সালে ১৯ জন, ২০১৮ সালে ১৩ জন, ২০১৯ সালে ২৩ জন, ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে ১৩ জন, ২০২২ সালে ৭ জন, ২০২৩ সালে ৭ জন এবং ২০২৪ সালে ৭ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত চার জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

২০০৯ সালের মে মাসে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) কর্তৃক গৃহীত ‘হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন’ গত বছরের ২৬ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে, যার লক্ষ্য জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে বেলা (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি)-সহ বিশেষজ্ঞ গ্রুপগুলো মনে করে, শুধু হংকং কনভেনশনই যথেষ্ট নয়। গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের পর আগের দুই বছরের তুলনায় মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, কারখানাগুলো এখনও শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।

ডিআইএফই চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, গ্রিন ছাড়পত্র পাওয়া অনেক ইয়ার্ডই নিরাপত্তার নিয়মকানুন মেনে চলে না, যে কারণে ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

একসময় ১৬০টি ছোট-বড় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড থাকলেও বর্তমানে ৩১টি সচল শিপইয়ার্ড রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh