
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ঋণ কমানো, আদায় বাড়ানো এবং মামলার সংখ্যা হ্রাসের লক্ষ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) আওতায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা সার্কুলার আকারে জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব তদারকিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ দেবে। এসব প্রতিষ্ঠান একাধিক প্যানেল গঠন করে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে এসব প্যানেলে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আদায়কৃত ঋণের বিপরীতে একটি অংশ কমিশন হিসেবে পাবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে আর্থিক খাতের গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকার থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি স্বার্থের সংঘাত গোপন করে, পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে, তবে তাদের তালিকাভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হবে। এছাড়া গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা বা অসদাচরণে জড়িত হলে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বা সুনাম ক্ষুণ্ন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকাবহির্ভূত করতে পারবে।
তালিকাভুক্তি স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে চলমান কার্যক্রম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে পারবে। একই সঙ্গে অন্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশনাও দেওয়া হতে পারে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, আইন পেশা, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা বা বিচারকার্যে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরভিত্তিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।
সূত্র জানায়, অতীতে আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণের হার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের মতো অনেক দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে এ ধরনের পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশেও এর আগে সীমিত পরিসরে এই প্রক্রিয়া চালু ছিল, তবে এখন সুস্পষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :