Facebook Twitter Instagram YouTube

নতুন পে-স্কেলের অর্থ জোগাতে প্রয়োজনে ঋণ নেবে সরকার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২০, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ /
নতুন পে-স্কেলের অর্থ জোগাতে প্রয়োজনে ঋণ নেবে সরকার

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এই নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বেতন কাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

উপদেষ্টা জানান, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত পে-স্কেল নিয়ে তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়ে থাকে। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদনের ওপর সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করেছে।

বিচার বিভাগের পে-স্কেলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ গঠিত কমিটির প্রথম সভা ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবে। এর মাধ্যমেই পে-স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় সম্পন্ন হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ঋণ নেওয়াকে তিনি সমস্যা হিসেবে দেখেন না। তার মতে, বাজেট ঘাটতি, জিডিপির তুলনায় করের হার এবং সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই মূল বিষয়। এ সময় তিনি সরকারি চাকরিজীবী ও বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনার বিষয়ে বলেন, কর্ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বেসরকারি ব্যাংকের এমডির বেতনের সরাসরি তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং পেনশনভোগীসহ এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে। তবে বেতন বাড়লেই দুর্নীতি কমবে—সরকার এমন কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din