
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসন ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিন্নতার কারণে মন্ত্রিসভার আকারে বড় ধরনের বৈচিত্র্য দেখা যায়। শাসন ব্যবস্থার ধরন, বিশেষ করে সংসদীয় বনাম রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতি, মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে। কোনো কোনো দেশ বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার পরও ছোট মন্ত্রিসভা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, আবার কোথাও গড়ে উঠেছে বিশাল আকারের মন্ত্রিসভা।
প্রেসিডেন্ট শাসিত শাসন ব্যবস্থার অধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা মাত্র ২৩ জন, যা তাদের বিশাল অর্থনীতি ও আয়তনের তুলনায় বেশ ছোট। একইভাবে জার্মানির চ্যান্সেলরের ক্যাবিনেটে রয়েছেন ১৭ জন মন্ত্রী। সংসদীয় ব্যবস্থার দেশ যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের মন্ত্রী সংখ্যা ২২ জন।
পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের প্রধানমন্ত্রী চালিত মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা ২০ জন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকারে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ১৯ জন। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন স্টেট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনায় অন্তত ৩৫ জন পূর্ণাঙ্গ সদস্য বা মন্ত্রী-পর্যায়ের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সাধারণত বড় আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রবণতা দেখা যায়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা ৭২ জন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের অধীনে গঠিত মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা ১০৯ জন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অন্যতম বৃহত্তম মন্ত্রিসভা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া পাকিস্তানের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৫৫ জন সদস্য।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার অধীনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা ৫৪ জন। মূলত প্রতিটি রাষ্ট্রই নিজ নিজ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তাদের মন্ত্রিসভার এই প্রশাসনিক আকার নির্ধারণ করে থাকে।
আপনার মতামত লিখুন :