
নওগাঁর মান্দায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় ৩ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মান্দা উপজেলায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের এই প্রশিক্ষণের জন্য এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থীকে নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন দেখানো হলেও বাস্তবে মাত্র একদিন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষকের জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা করে দুই দিনে ৬ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাগজ-কলমে ৪ জন প্রশিক্ষক ও ৬৪ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হলেও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া ৬৪ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন দেড় হাজার টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। ভাতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শুধু খাবার ও একটি করে স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা শিক্ষার্থীরা জানেন না।
প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন জানান, গত ১৫ জুন মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একদিনের প্রশিক্ষণ ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। এছাড়া ৪ জন প্রশিক্ষকের জন্য ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও তারা পেয়েছেন মাত্র ১২ হাজার টাকা।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও এই অনিয়মের বিষয়ে কথা বলেছেন। মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ৩ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে অংশ নিলেও তাদের শুধু একটি প্যাড দেওয়া হয়েছে, ভাতার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা খালেনুর বেগম সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন। এছাড়া প্রসাদপুর ইউনিয়নের বিদ্যা মাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ভারতী রাণী জানান, তিনি ছাত্রীদের খাবার ও যাতায়াত ভাড়া হিসেবে ১ হাজার টাকা পেতে দেখেছেন, কিন্তু প্রশিক্ষণ ভাতার বিষয়ে তার কোনো তথ্য নেই। প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিন জানান, তাকে শুধু স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল, প্রশিক্ষণে কতজন শিক্ষার্থী অংশ নেন বা প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, মান্দার সকল বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৫ জন করে শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন এবং প্রকল্পটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর বাইরে তার কোনো বক্তব্য নেই।
আপনার মতামত লিখুন :