Facebook Twitter Instagram YouTube

কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে এক মাস ধরে পানিবন্দি হাজারো মানুষ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ /
কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে এক মাস ধরে পানিবন্দি হাজারো মানুষ

কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে দীর্ঘ এক মাস ধরে পানির তীব্র সংকট চলছে। কলকাতা পৌর করপোরেশনের (কেএমসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকার এই কলোনিতে প্রায় ৬০ বছর ধরে ৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লাপাড়া’ বা মুসলিম কলোনি নামে পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম এবং অল্পসংখ্যক হিন্দু পরিবারও রয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই থেকে কলোনির ছয়টি কলের পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ একই সড়কের হিন্দু অধ্যুষিত কলোনিগুলোর পানির কল সচল রয়েছে। ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা পাইপলাইন মেরামতের জন্য এসেছিলেন এবং ২৯ জুলাই পর্যন্ত পানি পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পুলিশ ও পৌর করপোরেশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও বাসিন্দারা কোনো সমাধান পাননি। এমনকি কলোনির রাস্তার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পানি না থাকায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে গঙ্গার দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। জাহানারা বিবি নামের এক বাসিন্দা জানান, ছোট শিশুরা ঘাট থেকে পানি আনতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। অনেকে চর্মরোগ, জ্বর ও মাথাব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ইসা খাতুন জানান, পানির সংকটের কারণে তিনি স্কুলে যেতে পারছেন না এবং পরীক্ষার সময় তার পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি এর আগে এই বস্তির মানুষকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী’ বলেছিলেন এবং সংখ্যালঘু এলাকায় কাজ করবেন না বলে হুমকি দিয়েছিলেন। বাসিন্দাদের দাবি, তিনি এখন সেই বক্তব্যই বাস্তবায়ন করছেন। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কাউন্সিলর সুমন সিং নির্বাচনের পর থেকে এলাকাছাড়া বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সিপিআই(এম) এবং পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি ট্যাঙ্কারে করে কিছু পানি সরবরাহের চেষ্টা করলেও তা ৫ হাজার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নয়। স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা আলমগীর বিশ্বাস জানান, তারা বিষয়টি পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। বস্তি উচ্ছেদের আশঙ্কার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে এবং উচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পেয়েছে।

সাংবাদিক ও কলাম লেখক অর্ক ভাদুড়ি এই পরিস্থিতিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক ও সংবিধানবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে বাসিন্দাদের এই অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh