
চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক সহযোগিতা সংস্থা বা ডব্লিউএআইসিও-তে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ২৯টি সদস্য দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা সাংহাইভিত্তিক এই সংস্থাটি মূলত উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) বৈঠকের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে ওয়াং ই বাংলাদেশকে ডব্লিউএআইসিওতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও এই সংস্থায় বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, গত মাসে সাংহাইতে অনুষ্ঠিত এআই বিষয়ক সম্মেলনে বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। সেই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
এদিকে, একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আইটি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে, যার লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টরের নিরাপদ সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করা।
চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্ব এখন দুটি আলাদা ব্লকে বিভক্ত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নতুন গঠিত ডব্লিউএআইসিও নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পর্যালোচনা করছে, তাই তাদের পূর্ণাঙ্গ অভিমত এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :