Facebook Twitter Instagram YouTube

কমতে পারে শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব, পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ / ০
কমতে পারে শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব, পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের

দেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পরপরই আবহাওয়ায় স্পষ্ট পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। গ্রামাঞ্চলে ভোরে হালকা কুয়াশার দেখা মিলছে, আর রাতের শেষ ভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত বাতাসে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও এবার শীতের সামগ্রিক তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে শীতের স্থায়ীকালও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ছোট হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সরে যাওয়ার পর বাতাসে উত্তর দিক থেকে প্রভাব তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহের মাত্রা যত বাড়বে, শীতের অনুভূতিও তত স্পষ্ট হবে। এই পরিস্থিতির ছোঁয়া ইতিমধ্যে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম দিকেই উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। আর ওই মাসের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের রূপ নিতে পারে পরিস্থিতি।

অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় শীতের আবহ তৈরি হতে উত্তরাঞ্চলের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগবে। ডিসেম্বরের দিকে ঢাকায় শীতের প্রকোপ স্পষ্ট হতে পারে উল্লেখ করে তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, এ সময় রাজধানীর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা আছে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস মাত্র। মূল তাপমাত্রা কেমন হবে তা নির্ভর করবে বায়ুর গতি ও দিক, মেঘের পরিস্থিতি এবং স্থানীয় আবহাওয়ার ওপর। পাশাপাশি ঘনবসতি ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে ঢাকার মতো মেগাসিটিতে রাতের তাপমাত্রা আশেপাশের খোলা এলাকার মতো অত দ্রুত কমে না। ফলে দেশের উত্তরে শীত জেঁকে বসলেও একই সময়ে ঢাকায় সমান মাত্রায় ঠান্ডা নাও পড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণেও তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। বর্ষাকালের তুলনায় এখন সূর্যকিরণ আরও তির্যকভাবে পড়ার ফলে ধীরে ধীরে দিনের উত্তাপ কমে আসছে এবং রাতের শীতলতা বাড়ছ। রাতের বেলায় ভূমির কাছাকাছি বাতাস ঠান্ডা হয়ে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এলে মাঠে-ঘাটে ও জলাশয়ের পাশে কুয়াশা তৈরি হয় এবং ঘাস ও গাছের পাতায় শিশির জমে। তবে ভোরে কুয়াশা পড়লেই যে তীব্র শীত এসে গেছে—বিষয়টি এমন নয়। এ সময়ে সকালে ঠান্ডা লাগলেও দুপুরের কড়া রোদে আবার গরম অনুভূত হতে পারে। পরবর্তীতে রাতের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমলে তবেই ঠান্ডা স্থায়ী রূপ নেবে।

শীতকালে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে অধিদপ্তর। মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও বঙ্গোপসাগরে যদি নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হয় কিংবা বায়ুমণ্ডলের সার্বিক পরিস্থিতিতে রদবদল ঘটে, তবে দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা আবহাওয়াব্যবস্থা বাতাস ও মেঘ বহন করে আনলে শীতকালেও বৃষ্টি তৈরি হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের মৌসুমি পূর্বাভাসে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের নানা ভিন্নতার কথা বলা হলেও, তা থেকে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো জেলায় ঠিক কবে বৃষ্টি হবে তা স্পষ্টভাবে বলা যায় না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh