কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত এলাকায় সাগরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সৈকতের হিমছড়ি সাগরনিবাস পয়েন্টে ভেসে আসা মরদেহটি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বীচ কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। নিহত এই পর্যটকের নাম হারুন, তার বাড়ি চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডিতে মোট চারজন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার হলো।
এর আগে গত বুধবার বিকেলে রামুর হিমছড়ি প্যাঁচার দ্বীপ সংলগ্ন মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘর এলাকার সৈকতে গোসলে নেমে প্রবল স্রোতে ভেসে যান একাধিক পর্যটক। ওই দিন সন্ধ্যায় প্রথম দফায় লাইফগার্ড কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সাগরে নিখোঁজ থাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড়কে (২৩) উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া চারজনের মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন জানান, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত বন্ধু মিলে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার দুপুরের দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। বেলা ১টার দিকে তারা হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ এলাকার ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে কক্ষ নেন। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকেলে তারা সাগরে গোসল করতে নামেন। ঠিক একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটকদের আরেকটি দলও সেখানে সাগরে গোসলে নেমেছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সমুদ্রে নামা পর্যটকদের অনেকেই সাঁতার জানতেন না। গোসলের একপর্যায়ে কয়েকজনকে পানিতে ডুবতে দেখে অন্যরা তাদের সাহায্যে এগিয়ে যান। কিন্তু সাগরের শক্তিশালী স্রোতের টানে তারাও ভেসে যেতে থাকেন। এতে পাঁচজন যুবক পানিতে ডুবে যান এবং একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া তিন পর্যটক হলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইবুল হক জিসান (২৩), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) এবং মোহাম্মদ আকাশ।
নিহতদের মধ্যে আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মুকাররম হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে, নিখোঁজ থাকা এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে এবং তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। নিখোঁজ এই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল সমুদ্রে তল্লাশি প্রক্রিয়া জোরদার রেখেছে।
আপনার মতামত লিখুন :