Facebook Twitter Instagram YouTube

ভালুকায় তীব্র গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ /
ভালুকায় তীব্র গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

ময়মনসিংহের ভালুকায় তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় অন্তত ২০টি শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাদের ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দিচ্ছে। গ্যাসের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি না পেলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন জানান, গত ২০ আগস্ট সকাল থেকেই ভালুকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদামত গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভালুকা-গৌরীপুরের টোয়েটা স্পিনিং মিলসের ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, আর সীমা স্পিনিং মিলসে ৩০টি মেশিন বন্ধ রাখায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শিল্প পুলিশ-৫-এর তথ্যমতে, ভালুকা শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে এসব কারখানায় অর্ধেকেরও বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকপক্ষ। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান জেনারেটর বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান গ্যাসের অভাবে শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ভালুকা এলাকার জন্য নির্ধারিত ১৪০ ও ১৫০ পিএসআই চাপের দুটি লাইনে বর্তমানে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় চাপের এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভরাডোবা গোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ জানান, প্রায় দেড়-দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও বর্তমানে তা ১১ থেকে ১২ পিএসআইতে নেমে এসেছে, যেখানে ১৫ পিএসআই প্রয়োজন।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন কমার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও কর্মঘণ্টা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শিল্প মালিকরা দ্রুত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh