
বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল বর্তমানে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই অঞ্চলের মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাপ্তাই সোলার (৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট), রাউজান-১ ও রাউজান-২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার), টেকনাফ সোলার (২০ মেগাওয়াট) এবং ইউনাইটেড পাওয়ার (৫০ মেগাওয়াট)। এছাড়া আনলিমা এনার্জি লিমিটেড (১১৬ মেগাওয়াট), আনোয়ারা ইউনাইটেড (৩০০ মেগাওয়াট), বারাকা (৫০ মেগাওয়াট), বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১ ও জুলদা-২ এবং জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।
পিডিবি কাগজে-কলমে চট্টগ্রামে লোডশেডিং শূন্য মেগাওয়াট দেখালেও বাস্তবতা ভিন্ন। নগরীতে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৬৮ দশমিক ৭৯ মেগাওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে ৯৫৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ সমপরিমাণ দাবি করা হলেও বাস্তবে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং চলছে। নগরীতে টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়েও বড় বড় অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানায় সংকট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন গত সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ৩ মার্চ কারখানাটি উৎপাদনে ছিল, পরদিন ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানাটি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন। সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, তবে চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধের ফলে কারখানাটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। এ অঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাতটি বন্ধ হওয়ার পথে। এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। বাকি ১৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে থাকলেও চট্টগ্রামে লোডশেডিং চরমে পৌঁছেছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি না মেলায় সংকটে পড়েছেন নগরবাসী। তাছাড়া চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :