
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃতদের নাম সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোর নাগাদ মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকেই ওই দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের বাড়িও একই এলাকায় বলে জানা গেছে।
সূত্রটি দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই ভবনে বসে আটককৃতরা মাদক সেবন করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এলাকাটিতে অভিযান শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাদের আটক করে। আটকের সময় এক যুবক পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে ধরা হয়। স্থানীয় যুবকদের একটি দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে ঢুকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজনদের আটকের বিষয়টি এখনো স্বীকার করেনি। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এর মধ্যে ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর, সিঁড়ি থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ের এবং শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং আসবাবপত্রসহ টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা ছিল। রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাব যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :