
লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুমে সহায়তার অভিযোগে বিধানের বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন রায় কার্যকরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা রাতভর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি অস্বাভাবিক নরম দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহ জাগে। পরে সেখানে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। নন্দিনীর পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যাতে অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ছয়টি কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এত দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :