Facebook Twitter Instagram YouTube

গ্যাসের ঘাটতি বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট, বাড়ছে লোডশেডিং


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২০, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ /
গ্যাসের ঘাটতি বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট, বাড়ছে লোডশেডিং

দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বেলা তিনটার দিকে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটির মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রকট আকার ধারণ করে। রাজধানী ঢাকা ও গ্রামাঞ্চলসহ সারা দেশেই এর প্রভাব পড়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বুধবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট এবং দেশীয় কূপ থেকে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুটসহ মোট ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। তবে সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি সরবরাহ কমে ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে নেমে আসে। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ সামান্য কমে ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুটে দাঁড়ায়, ফলে মোট সরবরাহ কমে ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে নেমে আসে। অথচ সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার ফলে সন্ধ্যায় ঘাটতি ছিল ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ হ্রাসের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পাওয়ার গ্রিডের তথ্যানুযায়ী, সকাল ১০টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১৭ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট, তখন লোডশেডিং ছিল মাত্র ১১৭ মেগাওয়াট। বেলা দুইটায় চাহিদা ১৫ হাজার ২০৬ মেগাওয়াটে উঠলে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াট, ফলে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭ মেগাওয়াটে। বিকেল পাঁচটায় চাহিদা ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, যেখানে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮০৪ মেগাওয়াট।

সন্ধ্যা সাতটায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াটে পৌঁছালে সরবরাহ নেমে আসে ১৪ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াটে। এ সময় লোডশেডিং ২ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। রাত ৯টার দিকেও ২ হাজার ৪৪৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাসের স্বল্পতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন নতুন এলএনজি কার্গো না আসা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে এবং বৃষ্টি না হলে বৃহস্পতিবারও লোডশেডিংয়ের এই ভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।গ্যাস সরবরাহ কমার প্রভাব বুধবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo