Facebook Twitter Instagram YouTube

গ্যাস সংকটে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি, তদন্তের নির্দেশ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২০, ২০২৬, ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ /
গ্যাস সংকটে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি, তদন্তের নির্দেশ

দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি ও গাড়িতে গ্যাস না পাওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকট নিরসনে সরাসরি তদারকির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বিশেষ করে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় এলএনজি কার্গো সময়মতো সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রায় ২৫ বছর পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০০১ সালের পর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

জ্বালানি বিভাগের ব্যর্থতার দায়ভার প্রকট হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে এলএনজি ক্রয়সহ জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রমের নিয়মিত আপডেট জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা রেহান আসিফ বুধবার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে তার আরও কয়েক দিন সময় প্রয়োজন।

২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সংকট ঘনীভূত হয়। আংশিকভাবে সেটি ৬ আগস্ট ঠিক হলেও এখনো সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। তদন্তের জন্য জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি জুলাই মাসের শেষে মাতারবাড়ি গিয়েও টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারেনি। টার্মিনালে কর্মরত ৪০ জনের অজুহাতে এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ কমিটির সদস্যদের প্রবেশাধিকার দেয়নি। সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাকে চট্টগ্রামের বোর্ড ক্লাবে বৈঠক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে পরবর্তীতে সেখানে পাঠানো হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বেলা ৩টা থেকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে দিনে ৫৬ থেকে ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের কম ছিল। বুধবার বিকাল ৫টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।

জ্বালানি বিভাগ এখনো এক্সিলারেটের জন্য এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ক্রয় নীতির মাধ্যমে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে জ্বালানি বিভাগকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ১৪টি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগে ২১ জুলাই। অগ্নিদুর্ঘটনার পর থেকে এক্সিলারেটের জন্য এখনো এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করতে পারেনি জ্বালানি বিভাগ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor